
পাইকগাছা-কয়রায় লবণাক্ত পানির আগ্রাসন, হুমকিতে কৃষি ও সুপেয় পানি
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় লবণাক্ত পানির আগ্রাসন ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নদী-খাল ও জলাশয়ে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে, ছিদ্র করে বা পাইপের মাধ্যমে মৎস্যঘেরে নোনা পানি প্রবেশ করানোর অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন উপকূলবাসী।
লবণাক্ত পানির কারণে কৃষিজমি, মিঠা পানির উৎস, বসতভিটা, গাছপালা, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট আরও তীব্র হয়।
স্থানীয়দের দাবি, পাইকগাছা পৌর এলাকার শিববাটি ও বয়রা ওয়াপদা গেটসহ বিভিন্ন স্থানে নোনা পানি প্রবেশের কারণে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নোনা পানি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক অ্যাডভোকেট এফ.এম.এ. রাজ্জাক। তিনি ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ সালে ৮ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আবারও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগতি পত্র দিয়ে নোনা পানি উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তার দাবির মধ্যে রয়েছে বাঁধ কেটে বা সরকারি গেট ব্যবহার করে নোনা পানি উত্তোলন বন্ধ, নিরাপদ পানি সরবরাহ বৃদ্ধি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ।
উপকূলবাসীর দাবি, বাঁধ ও স্লুইসগেট সংস্কার, মিঠা পানির উৎস সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং লবণসহিষ্ণু কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। নোনা পানির আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবেশে সংকট আরও বাড়তে পারে।